সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, তিন বছর ধরে দুর্ভোগে ঝিনাইগাতীর ১৫ হাজার মানুষ

৩ অক্টোবর ২০২৬, ৫:০৭

নিজস্ব সংবাদদাতা : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার বনগাঁও-চতল সড়কের ওপর ৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ প্রায় তিন বছরেও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় বাড়ানো হয়েছে আরও ১৬ মাস সময়। সেই সময়সীমাও পেরিয়ে গেলেও এখনো অসমাপ্ত সেতুটি। এতে বনগাঁও, চতল, জিগাতলা, খা-পাড়া, কালাকুড়াসহ আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, আহম্মদনগর-বনগাঁও-চতল সড়কের ওপর ৭৫ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হয়। টেন্ডারের মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ পায় মমিনুল হক, স্বর্ণা ব্রিকস ও হালিমা এন্টারপ্রাইজ নামের তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট শুরু হয় নির্মাণকাজ। চুক্তি অনুযায়ী ১৬ মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় পরবর্তীতে আরও ১৬ মাস সময় বাড়ানো হয়। বাড়তি সময়সীমা শেষ হলেও এখনো সেতুর নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়নি।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের অগ্রগতি প্রায় ৭০ শতাংশ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ বিল উত্তোলন করেছে।

সেতুর কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় নদী পারাপারে বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে বাঁশের সাঁকো। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার হচ্ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্ষাকালে পানির স্রোত ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতুটি নির্মাণ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সহজ হতো। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতার কারণে সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজের ধীরগতি ও যথাযথ তদারকির অভাবেই প্রকল্পটি দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তারা দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার পাশাপাশি কাজের গুণগত মান ও অগ্রগতি যথাযথভাবে তদারকির দাবি জানিয়েছেন।

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নির্মাণকাজে ক্ষতি ও বিলম্ব হয়েছে। মানুষের চলাচলের কথা বিবেচনা করে বিকল্প বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে এলজিইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী মার্চ এপ্রিলের মধ্যেই সেতুর বাকি কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আর সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন অন্তত ১৫ হাজার মানুষ।